রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়েও কপালে ভাইফোটা ,মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ফোঁটা নিলেন নেতা মন্ত্রীরা । - TBNEWS

Breaking

TBNEWS

explore the world news

Post Top Ad

READ ALSO

                                                             

Sunday, 22 October 2017

রক্তের সম্পর্ক ছাপিয়েও কপালে ভাইফোটা ,মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে ফোঁটা নিলেন নেতা মন্ত্রীরা ।


কেউ বলে বোন যমুনার হাত থেকে ফোটা নিয়েই অমরত্ব পেয়েছিনেম মৃত্যুর দেবতা যম । আবার অন্য মতে, দৈত্য নরকাসুরকে বধ করার পর দীর্ঘায়ু কামনা করে শ্ৰীকৃষ্ণের কপালে ভাইফোটা দিয়েছিলেন সুভদ্রা। তবে, পুরানের সেই মিথটা কবেই গণ্ডিটা। শুধু রয়ে গিয়েছে। সেই মন্ত্রের শ্রুতিটা - — ‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোটা, যমের দুয়ারে আমার ভাইকে ফোটা।” এখন অবশ্য যমুনা আর যমের সম্পর্কটা হয়েছে ব্যাপকতর। ভাইফোটা এখন ভ্রাতৃস্থানীয়দের সঙ্গে বোনদের গ্ৰীতির বন্ধনের প্রতীকী তিলক । আবার কারও কারও ক্ষেত্রে জনসংযোগেরও একটা মাধ্যম। তাই এই উৎসবে সামিল আটপৌরে জনগণ থেকে নেতাপথশিশু থেকে যৌনকর্মীদের কপালেও এদিন ফোটা পড়ে অনাত্মীয়দের হাতে। কারণ কামনা। সেখানে রক্তের সম্পর্কের ট্যাগটা তো অর্থহীন। তাই শনিবার ভাইফোটার দিন সকালে বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সকালই পাটভাঙা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে মমতা বাড়িতে হাজির হয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বিক্সি, ফিরহাদ (ববি) হাকিম, ধুতি পাঞ্জাবির সাজে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ডেরেক ও ব্রায়ান, তমোনাশ ঘোষ |
সমস্ত সাম্প্রদায়িক আচার আর প্রথার বেড়া ডিঙিয়ে এদিন শুধু মমতা’র প্রীতির বন্ধনে বন্দি হওয়া। ক্যালোরি-সুগারের যাবতীয় চোখরাঙনি ডিঙিয়ে "দিদির হাত থেকে মিষ্টি খাওয়ার আনন্দ। এদিনটায় যে ‘মমতা’ তাদের কাছে আরও বেশি। করে দিদি" হয়ে ওঠেন। পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় অবশ্য এদিন তার বোনেদের বাড়ি গিয়েছেন ফোটা নিতে। কৃষি বিপনন মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত পাত পেড়েছেন সত্ত্বেও তাদের বোনের হাত থেকে ফোটা নেওয়ার ডাকটা এড়াতে পারেননি বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, দমকলমন্ত্রী তথা মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। আবার পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী করেছিলেন ভাইফোটা উৎসবের। আর ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বেলা একটায় টালিগঞ্জের নবনীড় বুদ্ধাশ্রমে সত্তরজন বৃদ্ধার কাছ থেকে ভাইফোঁটা নিয়েছেন।

তাদের সঙ্গে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন সেরেছেন। বিজেপির মহিলা মোর্চা এদিন গণফোটা দিয়েছেন বিজেপি সমর্থকদের। বিজেপি’র প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা হাওড়ায় গিয়েছেন তার বোনের বাড়িতে। বাম নেতারা ধর্মীয় প্রথা সাধারণত পালন করেন না। তবে বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যকে আটকে রাখতে পারেনি কোনও বিধিনিষেধ। এদিন তিনি

বারাসতে পৌছে গিয়েছেন বোনের বাড়ি। এভাবেই ভাইফোটার উৎসব দেশ কাল জাতি ধর্ম সবকিছু ছাপিয়ে হয়ে গিয়েছে সর্বজনীন। এদিন ভাইফোটার উৎসবে মেতেছেন। টালিগঞ্জের সেলিব্রিটিরাও । ব্যক্তিতম নায়ক প্রসেনজিৎ বহুবছর ধরে এদিনটাই আসেন বোন পল্লবীর বাড়িতে। এবারও সেই নিয়মে অন্যথা হয়নি। সেখানে এসেছেন ফ্যাশন এক্সপার্ট শৰ্মিলা সিং ফ্লোরাও। পাট ভাঙা সাদা পাজামা পাঞ্জাবি পরা চুয়া চন্দনের ফোটায় সাজা প্রসেনজিতের হাত থেকে উপহারের প্যাকেট নিয়ে খুশিতে উচ্ছল হয়ে উঠেছেন পল্লবী আর শর্মিলা। ওদিকে পাওলি ভাইয়ের কাছ থেকে পাওনা হয়েছে কাঞ্জিভরাম শাড়ি। চৈতী ঘোষালেরও এদিন ভায়ের কাছ থেকে উপহার নিয়েছেন। একদিকে মিষ্টিতে সাজানো ভাইফোটার মিষ্টান্নের ভূজ্যতাম'। অন্যদিকে ভায়েদের উপহারের ‘দেয়।তাম’। এই 'দেয়তাম’ আর 'ভুজ্যতাম’ –এর দেওয়া নেওয়ায় জমে ওঠে ভাইফেঁটার পার্বণটা। তবে এই দেওয়া নেওয়াটা যে সবসময় বাহ্যিক বাস্তবতার মধ্যে আটকে থাকে না। কখনও কখনও এই দেওয়া চলে অপার্থিব আনন্দের বরণডালায়। আজকের দিনটায় বেশ কিছু এনজিও পথশিশুদের জন্য ভাইফোটার আয়োজন করেছিল। প্রদীপ আলোয়, চন্দনের ফোটায় পথশিশুদের মুখগুলো উপাচারে। আর যে যৌনকর্মীদের নিজেদের
পারিবারিক বন্ধন কবেই আলগা হয়ে গিয়েছে, ফিকে হয়ে গিয়েছে রক্তের সম্পর্কের মুখগুলোর স্মৃতি, এদিন তারাও পালন করেছেন ভাইফোটার উৎসব। দুর্বার সমিতি’র উদ্যোগে এদিন যৌনকর্মীদের পাড়াতেও হয়েছে গণ ভাইফোটার উৎসব। শঙ্খ, উলুধ্বনি, ধান দুর্বর আশীর্বাব্দীতে এদিনটায় আঁধার গলিতে স্বৰ্গীয় মহিমা। এভাবেই দূর হয়েছে নিকট, পর হয়েছে ভাই। আবার কারও কারও ক্ষেত্রে কাছের মানুষও এদিন রয়ে গিয়েছেন দূরে। কর্মসূত্রে এদিন অনেকেই দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে রয়ে গিয়েছেন। বিদেশে। সেখানে যে ভাইয়ের কপালে হাত ছোয়ানো যায় না। কিন্তু তাতেই বা কী? এই অ্যান্ড্রয়েড, ইন্টারনেট, স্কাইপের সাহায্যে সেখানে চলছে ভার্টুয়াল ভাইফোটা। সোসাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে সেই ভাইফোটার ছবি। একসময় বোনেরা ভাইফোটায় বাপের বাড়ি আসতে না পারলে ফোটা দিতেন বাড়ির দেওয়ালে। এখন সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটের ওয়ালটাই তার বিকল্প হয়ে উঠছে। হােয়াটস অ্যাপ, ফেসবুকে ভাইয়ের কপালে ফোটা একে পাঠানো হচ্ছে। মিষ্টি সাজিয়ে, শাঁখ বাজিয়ে তার ছবি আর শব্দটাও পৌঁ7াছে দেওয়া হচ্ছে ভাইয়ের কানে। তাতেই সারা হয়ে যাচ্ছে ভাইফোটার উৎসব। আসলে এই উৎসব যে শুধুই শুভ কামনার, মঙ্গল প্রার্থনার। সেখানে হাতের স্পর্শ না থাকুক,থাকুক। শুধু হৃদয়ের পরশখানি।
twitter- ---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- If You have any Questions or Query You can freely ask by put Your valuable comments in the COMMENT BOX BELOW আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে আপনি নিচে COMMENT BOX এ আপনার মূল্যবান মন্তব্যগুলি করতে পারেন । #Don’t forget to share this post with your friends on social media

No comments:

Post a Comment

thanks for the comment

READ ALSO