ধর্মের দোহাই দিয়ে দীপাবলির বাজি উৎসব আমাদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে? - TBNEWS

Breaking

TBNEWS

explore the world news

Post Top Ad

READ ALSO

                                                             

Wednesday, 18 October 2017

ধর্মের দোহাই দিয়ে দীপাবলির বাজি উৎসব আমাদের কোথায় ঠেলে দিচ্ছে?



আলোর উৎসব দীপাবলি। বলা হয়। অন্ধকার থেকে আলোয় উত্তরণ। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন, বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরপরই অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি আর ধূলিকণা ও কার্বনের পরিমাণ বেড়ে দূষণের মাত্রা ক্রমশ বাড়তে থাকে। শব্দদূষণ রোধে নির্দেশের বড় ভূমিকা নিশ্চয়ই ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে পরিবেশ কর্মীদের নাছোড় মনোভাব ও শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবেশ ও বিজ্ঞান কর্মীদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা গণআন্দোলনের ভূমিকাকেও কেউ অস্বীকার করতে পারে না। বিগত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছেনিয়ম ভাঙার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। শুধু শব্দদানবের তাণ্ডব প্রত্যক্ষ করছেন আট থেকে আশি ছুড়ে ফেলে দিয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে ছাড়পত্র আদায় করে চলছে। এই আইনকে দুর মূষ করার ভয়ঙ্কর খেলা। এবছরও দীপাবলি ও আলোর উৎসবে শব্দ বাজির দাদাগিরি ও আতসবাজির দৌরাত্ম থেকে কী মুক্তি মিলবে? উঠছে এ প্রশ্ন। ঘরে ঘরে তো শ্বাসকষ্টে ভোগা ও হৃদযন্ত্রে নানা ধরনের ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষের অভাব নেই। শুধু মানুষ নয়, শব্দদূষণে আক্রান্ত অকলা পক্ষীকূলও। প্রতি বছরই দীপাবলির রাতে প্রত্যক্ষ করা যায় বিকট শব্দে ডেকে ওঠে। কাকের দল, গাছে গাছে পাখিদের আর্তনাদ শোনা যায়। বারবারই সংবেদনশীল মানুষরা প্রশ্ন তোলেন, আমরা কি শুধু এক-দু রাত আনন্দের জন্য পৃথিবীকে এভাবে বিষিয়ে দেব। উচ্চ ন্যায়ালয়ের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ফি বছর চলছে। শব্দ দৈত্যের তাণ্ডব। তার মধ্যেও শব্দ বায়ুদূষণ রোধ সক্রিয় রয়েছে কিছু নাগরিক সংগঠন— কলকাতা সবুজ মঞ্চ, কলকাতার বাইরে শান্তিপুর সায়েন্স ক্লাকের মতো পরিবেশবাদী সংগঠনও প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। কন্ট্রোল রুম খুলে দীপাবলির রাতে শব্দ দূষণের মাত্রা বোঝারও চেষ্টা হয়। যদিও এই প্রচেষ্টা বিরাট সিন্ধুতে ক্ষুদ্র বিন্দুমাত্র।

খবরে প্রকাশ, বিগত কয়েক বছরে বায়ুদূষণের মাত্রা সহনশীল থেকে বহুগুণ বেড়েছে। আট থেকে দশ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি ঘটেছে। দীপাবলির রাতে বাতাসে ঘন ধূলিকণার সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়া ও বিরাজমান ছাই ভেসে বেড়ায়। দীপাবলির পরেও বেশ কয়েকদিন আবহাওয়া যথেষ্ট বিষাক্ত থাকে। বাতাসে বিপুল পরিমাণ সালফার ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড
বিশেষজ্ঞদের অভিমত। ২০০৭ সালে স্টেট নয়েজ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছিল। শব্দবাজির দাপাদাপি কিছুটা কমলেও আতসবাজির প্রভাব সর্বত্র। বায়ুদূষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে মৃত্যুর ফাদ তৈরি হয়। বিশিষ্ট পরিবেশবিদ সুভাষ দত্তের কথায়, ‘শব্দ দূষণের চেয়ে বায়ুদূষণ অনেক অনেক বেশি। মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী। রঙিন আসতবাজি এবং শব্দৰাজি কোনওটাই ভালো নয়। কিন্তু ধোয়াবাজির ক্ষতির ক্ষমতা অনেক বেশি।” এবছর দীপাবলির উৎসবে বায়ুদূষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সুভাষবাবু আবার দেশের শীর্ষ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট দিল্লিতে দেওয়ালি উৎসবে দূষণের মাত্রা পর্যবেক্ষণ শব্দদূষণ মাত্রা সাত-আট গুণ বেড়ে যায়। আর আসতবাজিতে বায়ুদূষণ উনত্রিশ গুণ বাড়ে। পরিবেশবিদ সুভাষ দত্ত বলেন, “দিল্লিতে শব্দ ও আতসবাজি নিষিদ্ধ হলে এ রাজ্যেই বা হবে না কেন। সুপ্রিম কোর্টের রায় হিমালয় থেকে কন্যাকুমারিকা সর্বত্রই কার্যকর হতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট তো শুধু দিল্লির জন্য নয়, একই দেশ, একই আইন। পশ্চিমবঙ্গেও এই রায় লাণ্ড করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি। আমি আশা করছি এতে দীপাবলির রাতে সংযত হওয়ার সূচনা হতে পারে।”

twitter-
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------- If You have any Questions or Query You can freely ask by put Your valuable comments in the COMMENT BOX BELOW আপনার যদি কোনও প্রশ্ন থাকে তবে আপনি নিচে COMMENT BOX এ আপনার মূল্যবান মন্তব্যগুলি করতে পারেন । #Don’t forget to share this post with your friends on social media

No comments:

Post a Comment

thanks for the comment

READ ALSO